আমি স্টেডিয়ামে এলাকা থেকে সময় থাকলে প্রায়ই হেঁটে বাসায় ফিরি। মাঝে মাঝে প্রয়োজনে বা কখনো এমনি এমনি শান্তিনগর হেডকোয়ার্টার যাই। ১০ তারিখে শ্রদ্ধেয় গুরুজীর কাছে একটি চিঠি লিখে হেঁটে খিলগাঁও আসছিলাম, শাহজাহানপুর এসে দেখি চমৎকার পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে। মনে পড়ে গেল গুরুজীর কথা...দেশীয় ফল খাওয়ার বিভিন্ন উপকারীতা। খুব ইচ্ছে করলো একটা পেয়ারা খেতে। জিজ্ঞেস করলাম,
আমি - ’ভাই একটা পেয়ারা দাম কত?’
বিক্রেতা - ’একটা বিক্রি হয়না, কেজী হিসেবে বিক্রি হয়।’
আমি - 'কেন ভাই, হালি হিসাবেও তো বিক্রি হয়, আমাকে একটা বা দুইটা দেন, দাম কত বলেন।’
বিক্রেতা - ’ওজনে যা হয়, সেই দাম দিবেন।’
আমি - ’ঠিক আছে, ওজনে একটার দাম কত হবে?’
বিক্রেতা - ’এই ধরুন...২৫ টাকার মতো হবে।’
আমি তো চাঁদ থেকে মাটিতে পড়লাম। আবারো কিছু কথোপকথন,
আমি - ’কি? একটার দাম ২৫ টাকা কি করে হয়...কেজী কত?’
বিক্রেতা - ’একদাম ১৫০ টাকা’
এবার আর মাটিতে পড়ার জন্য চাঁদে ফিরে যেতে মন চাইলনা...অবাক হয়ে দাড়িয়ে রইলাম। সর্বশেষ কিছু কথোপকথন,
আমি - ’কি বলেন? পেয়ারা আবার ১৫০ টাকা কেজী হয় নাকি? বিক্রি করতে পেরেছেন কিছু?’
বিক্রেতা - ’এই যে দেখেন খালি বাঙ। এগুলো দেখে বুঝতে পারেননা কেমন বিক্রি হয়?’
এবার সহকারী বিক্রেতা সুর মেলালেন - ’১০ মিনিট দাড়িয়ে থাকেন, তাহলেই বুঝতে পারবেন কেমন বিক্রি হয়।’
আমি পেয়ারা খাওয়া বাদ দিয়ে গন্তব্যে হাঁটা শুরু করলাম। দ্রব্যমূল্য বিষয়ে অনেক কথা মনে পড়ে গেল, সেগুলো নিয়ে অন্য একদিন আলোচনা করা যাবে। সেদিন খিলগাঁও থেকে ব্যাটারীর গাড়িতে বাসায় যাওয়ার সময় পাশের মুরুববী ভদ্রলোকটিকে জিজ্ঞেস করে ও পরবর্তীতে মাকে জিজ্ঞেস করে নিশ্চিত হয়েছিলাম যে পেয়ারার কেজী আসলেই ১৫০ টাকা চলছে।
কিছুদিন আগে একটি টিভি চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছিল ভারত থেকে ডিম আমদানী করে ঢাকায় নিয়ে আসতে প্রতিটি ডিমে খরচ হয় ২ টাকার কিছু বেশী। অথচ কাওরান বাজারের ডিম ব্যবসায়ীদের সেই ডিম কিনতে হয় ৭ টাকা করে। তাদের কাছ থেকে খুচরা ব্যবসায়ীরা কেনেন, তারপর আমরা। তাই ডিমের দাম আরো বেড়ে যায়। প্রায় সকল ক্ষেত্রেই দ্রব্যমূল্যের দাম যে প্রাকৃতিক উপায়ে বাড়ছে না তা আমাদের আর বুঝতে বাকি নেই।
আমার আলোচনা শুধুমাত্র আসলে দ্রব্যমূল্য নিয়ে নয়। এতো দাম দিয়ে আসলে কি খাচ্ছি তার উপর।
ছোট বেলায় দেখতাম পেয়ারা রেখে দিলে কয়েকদিন পর পেকে যেতো আর সুন্দর গন্ধ বেরোতো গা থেকে। এখন অনেকদিন পরও কিছু হয়না। কয়েকদিন আগে মা বাসায় পেয়ারা এনেছিলেন, সাইজে বেশ বড়, মনে হয় হাইব্রিড জাতীয় পেয়ারা। আমি একটি খেয়ে আসলে বুঝতেই পারিনি যে আসলে সেটি পেয়ারা। তাছাড়া এখন প্রায় সবকিছুতেই ফরমালিন মেশানো হচ্ছে পচন রোধ করার জন্য। তাতে করে আমাদের শরীরের ভিতরে কি হচ্ছে তা বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররাই ভাল বলতে পারবেন। ফরমালিন আমাদের কি কি ক্ষতি করে তা নিয়ে আমার আরো জানার ইচ্ছে আছে।
ও! আরেকটি কথা মনে পড়েছে। গত বছর ১০০ ভাগ সুস্থ থাকা অবস্থায় একদিন একটি পেয়ারা খেয়ে অসংখ্যবার ’’ল্যাটিন আমেরিকা’’ (মানে বুঝতেই পারছেন) যেতে হয়েছিল।
M. Mohiuddin
13 April 2012 - 4:09pm
Permalink
পেয়ারা খেতে ইচ্ছে হলে।
পেয়ারা খেতে ইচ্ছে হলে চট্টগ্রাম চলে আসুন, ফরমালিন ছাড়া বেশ মজাদার দেশী পেয়ারা খাওয়াবো। সামনেই পেয়ারার মৌসূম আসছে, দাওয়াত রইল আপনাদের সকলের জন্য।
samiur
22 April 2012 - 9:41pm
Permalink
Re: খুব পেয়ারা খেতে ইচ্ছে করছিল ...
অফিসে লাঞ্চের মেনুগুলোতে মাঝে-মধ্যেই আপেল থাকে । কিছুদিন আগে আমরা একটি নিয়ে পরীক্ষা করলাম। আপেলটাকে ডেস্কে রেখে দেওয়া হলো, উদ্দেশ্য কতদিনে পঁচে তা পরীক্ষা করা।
তো আপেল পঁচতে সময় নিলো ২২ দিন ! যা বুঝলাম, ফরমালিনের তারিখ এক্সপায়ার্ড হয়ে গেছে, বিধায় ওতে পঁচন ধরেছে। নাহলে অনায়াসে আরো মাসখানেক টিকে যেতো।
Rifat Zahan
22 April 2012 - 10:46pm
Permalink
Re: খুব পেয়ারা খেতে ইচ্ছে করছিল ...
সগ্গ জালালী/কেন্দ্রীয় অন্যান্য অনুষ্ঠানে মধু, শরবত আরো অনেক কিছু বিক্রি হয় | তার মানে আমাদের foundation এর যারা আছেন, তাদের প্রডাক্ট এগুলো | আমার প্রস্তাব হলো, আমাদের মধ্যে যাদের দেশীয় ফলের ব্যবসা আছে কিংবা দেশীয় ফল বিক্রি করার সুযোগ আছে, তারা জালালীর দিন নিয়ে আসলেই হয় | আমাদের-ও খাওয়া হলো আবার তাদের বিক্রি-বাটাও ভালো হলো | হা! হা! হা! খুব হাস্যকর হলো নাকি?